শুধু দলের বহিষ্কারের ভিত্তিতেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নয়। সংসদের পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়ার পর বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করলে এমপি পদ যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ইসি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী দল থেকে পদত্যাগ করলে এমপি পদ না থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু দল বহিষ্কার করলে সংবিধান অনুযায়ী এমপি পদ যাওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ থেকে রেফারেন্স করলে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের মাধ্যমে সংসদের চিঠি পেলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে কমিশন।’
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম। সোমবার রাতে এক নারীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়ায়। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। এরপর মঙ্গলবার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। বুধবার বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় মজলিসে শূরার এই সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জামায়াত বলছে, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।